বৃহস্পতিবার, ৩ জুলাই, ২০১৪

দুই নম্বর

 অমিঃ কিছু কিছু মানুষ পৃথিবীতে আসে শুধুমাত্র “দুই নম্বর হওয়ার জন্য আমি সেরকম একজন মানুষ আর কিছু কিছু  মানুষ সারাজীবন এক নম্বর হয়ে থাকে, সেরকমই একজন হলো “তপা”
ঋতুঃ কীভাবে?
অমিঃ প্রথম থেকে বলি, শোন
ঋতুঃ হ্যা বল, সবটা বল
অমিঃ শোন, পা ওর বাবা মায়ের বড় মেয়ে, আমি আমার বাবা মায়ের দ্বিতীয় ছেলে সেই থেকে ওর এক নম্বর আর আমার দুই নম্বর হওয়া শুরু। আমরা একই ক্লাসে পড়তাম ছিল ফার্স্ট আর আমি সেকেন্ড সবসময় তাই ছিল ফাইভে, ট্যলেন্টপুলে বৃত্তি পেল, আমি পেলাম সেকেন্ড গ্রেডে এইটেও তাই সবসময় তাই
ঋতুঃ আচ্ছা, পড়াশোনায় এরকমতো হতেই পারে
অমিঃ উহু, শুধু পড়াশোনায় না আমরা দুজনই গান গেতাম কিন্তু আমি কোন কম্পিটিশনে কোনদিন ফার্স্ট হতে পারিনি সবসময় সেকেন্ড হয়েছি আর সবসময় ফার্স্ট হয়েছে, কোনদিন সেকেন্ড হয়নি
ঋতুঃ ভালো, আর কিছু?
অমিঃ আমরা দুজন, একসাথে বিতর্ক প্রতিযোগীতায় অংশ নিয়েছি সবসময় দলনেতা, আর আমি দ্বিতীয়  বক্তা জেতার পরে কাপটা সবসময় হাতে নিত কিন্তু, আমার অবদান কেউ মনে রাখত না অথচ দলনেতা হওয়ার যোগ্যতা যে আমার ছিল না, তা কিন্তু নয়।
ঋতুঃ বাব্বা্‌, অনেক অভিযোগ দেখছি, আর আছে?
অমিঃ পিছু ছাড়েনি আমার, আরো শুনবি? একই সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলাম। আমার অবদান ওর চেয়ে কোন অংশে কম ছিল না। অথচ ওকে করা হলো সভাপতি আর আমাকে করা হলো সহসভাপতি। আর আমি মেনেও নিলাম বিনা বাক্য ব্যয়ে।
ঋতুঃ প্রতিবাদ করতিসসমস্যা কি ছিল?
অমিঃ প্রতিবাদ করে কি করব? আমারতো জন্মই হয়েছে দুই নম্বর হওয়ার জন্য!
নিশাদঃ হমমমনে হচ্ছে, আরো কোন ব্যপার আছে বলতো, আর কোথায় কোথায় তুই দুই নম্বর হয়েছিস !!
অমিঃ আমি ওর সাথে বাজি ধরেছিলাম, ক্যম্পাসে ওর আগে প্রেম করে দেখাব আর, আমাকে চ্যলেঞ্জ করেছিল, আমার আগে প্রেম করবে
ঋতুঃ নিশ্চয় পারিসনি?
অমিঃ পারিনি তবে প্রেম করেছি পরে
ঋতুঃ পরে মানে, ওর পরে?
অমিঃ মানে, ওর ব্রেকআপ হওয়ার পরে ওর মানসিক অবস্থা খুব খারাপ হয়ে যায়।আর আমি তখন ওকে মেন্টাল সাপোর্ট দিতে শুরু করলাম। আর তারপর, একসময় আমি নিজেই ওর প্রেমে পড়ে গেলাম ও রাজি হয়ে গেল এক কথায়! প্রেমও করলাম আমরা হয়তো আমার সারা জীবনের সমস্ত রাগ, হিংসা, ক্ষোভ রূপ নিয়েছিল ভালবাসায়
ঋতুঃ খুবি ভাল কথা। কিন্তু এর সাথে দুই নম্বরের সম্পর্ক কি তাতো বুজলাম না!
অমিঃ সম্পর্ক এই যে, আমার প্রথম প্রেম মানে, ঠিকই এক নম্বরের জায়গাটা ধরে রাখল, আমার লাইফে প্রথমে এসে আর আমি  যথারিতী দুই নম্বর, ওর লাইফে !!
ঋতুঃ ওয়াওতারপর?
অমিঃ যখন বুঝতে পারলাম, এখানেও আমি দুই নম্বর, তখন আর সহ্য করতে পারিনি। পুরোন সব রাগ, হিংসা,ক্ষোভ আবার জেগে মনের মাঝে ওকে বললাম, এক নম্বর আর দুই নম্বর কখনো এক সাথে থাকতে পারে না এক নম্বর থাকে এক নম্বরের সাথে আর দুই নম্বর থাকবে দুই নম্বরের সাথে
ঋতুঃ মানে? আবার ব্রেকআপ?
অমিঃ হ্যা, ব্রেকআপ। এবং মেকআপ।
ঋতুঃ সে আবার কী?
অমিঃ মানে ওকে আমি মিলিয়ে দিলাম ওর এক নাম্বারের সাথে এক নম্বর, এক নম্বরের সাথেই থাকুক!
নিশাদঃ আর তুই?
রবিঃ আমি অপেক্ষায় আাছি আমার দুই নম্বরের.........


অপেক্ষা...







ছেলে হয়ে মেয়ের মত লেখার চেষ্টা !!

প্রিয় রোল নাম্বার ৩৪,
আচ্ছা, তুমি কেমন ছেলে?? এক সেকেন্ড কি স্থির হয়ে বসে থাকতে পার না? অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, আমি তোমাকে আজ পর্যন্ত একটিবারের জন্যও চুপ করে বসে থাকতে দেখিনি! আমি জানি, তুমি যথেষ্ট গুণী একটা ছেলে। সেদিন মাঠে দেখলাম খেলছিলে। বিশ ওভারের খেলা। তুমি নেমেছিলে ওপেন করতে। মাত্র সাত ওভার মাঠে থাকলে। সাত ওভারে দলের রান পচাত্তর। তুমি একাই করলে বায়াণ্ণ! এটা কি ধরণের খেলা? কেন বিশটা ওভার কি মাঠে থেকে খেলে আসা যেতো না? কি লাভ হলো ওরকম খেলে? না মানে, আমি বলছিলাম, তুমি আরেকটু বেশি সময় মাঠে থাকলে আরেকটু বেশি সময় নিয়ে তোমাকে, মানে তোমার খেলাটা দেখতে পারতাম!
এই যে কথাটা বললাম, মনে কি একটুও দোলা লাগলো? মনেতো হয় না! শোণ, তুমি আমি সমবয়েসী। কিন্তু, মানসিকভাবে আমি তোমার চেয়ে অনেক এগিয়ে। কেন জান? কারন আমি মেয়ে আর তুমি ছেলে। আজ পর্যন্ত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র অনেক ছেলেই আমাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছে। আমি কিন্তু, এসবে মোটেই সারা দেইনি। আমার কিছু মনেই হয় না এসবে। অবশ্য তুমিতো আর এসবের খোঁজ রাখ না। কেন রাখবে? তুমিতো আছ তোমার যতসব বন্ধুগুলোকে নিয়ে। কি এক গ্রুপ তোমার! একজনও যদি একটু কাজের হয়! সবকটাই কেমন গর্ধব গর্ধব। এই রে! তোমার বধুদের নিন্দা করেছি বলে রেগে যাচ্ছ না তো? তুমিতো আবার বিরাট বন্ধুবৎসল ছেলে! রাগ করলে করো। তুমি কি মনে কর? তোমার এই বন্ধুগুলো তোমার মত? মোটেই না! তুমি মেয়েদের সাথে না মিশলে কি হবে? তোমার বন্ধুরা যথেষ্ট বান্ধবীবৎসল! সবাই নিজের পথটা বেশ দেখে নিচ্ছে
আর তুমি গাধাটা, গাধাই থেকে গেলে!
আবার রাগ করছো? গাধা বলবো নাতো কি বলবো তোমাকে? সারাক্ষণতো শুধু লাফানোর উপরেই আছ! সেদিন ক্লাসে দেখলাম, পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগে, হেঁটে হেঁটে পড়ছিলে। হাটাঁতো নয়, যেন দৌড়! পড়ালেখা কেউ লাফিয়ে লাফিয়ে করে? তোমার খাওয়া আমি দেখিনি অবশ্য। আচ্ছা, তুমি মনে হয় খাওয়াদাওয়া করার সময়ও লাফাও, তাই না?
শোন, একটু চোখ মেলে আশেপাশে দেখ। যথেষ্ট বড় হয়েছো। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়। লাফানোর বয়স আছে তোমার? দেখো, প্রেম আমিও করিনা। তাই বলে তোমার মত ছটফট করে বেড়াই না সবসময়। আচ্ছা,  আজকের যুগের কোণ মেয়েটা প্রেম করে না বলতে পার? আমাদের ক্লাসের মেয়েদের দিকে তাকিয়ে একবার দেখোতো! একটু খোঁজ নিলেই দেখবে; সবাই প্রেম করে। ওহ! স্যরি; তোমারতো আবার অত খোঁজ নেয়ার সময়ই নেই। তুমিতো হচ্ছো, এই পৃথিবীর ব্যস্ততম প্রাণী!
যাইহোক, তোমার খোঁজ নেয়ার দরকার নেইআমি বলছি, এটাই যথেষ্ট। তোমাকে যেটা বলছি সেটা শোণ। তুমি একটা প্রেম করো। তোমার ভালর জন্যই বলছি। তোমার লাফালাফিটা একটু কমানো দরকার। প্রেম করলে তোমার মাঝে কিছুটা স্থিরতা আসবে বোধ করিঅবশ্য প্রেম করতে তুমি পারবে বলেওতো মনে হয় না! আচ্ছা; প্রেম করো আর না করো, বিয়েতো করবে? তোমাকে যে মেয়ে বিয়ে করবে সে মেয়ের কপালে যে কি আছে! আমারতো সে বেচারীর জন্য করুণাই হচ্ছে!
শোণ, আবারও বলছি; প্রেম করো একটা। আমি তোমাকে প্রেম করা শিখিয়ে দেব। না না, প্রেম আমিও করিনি। তাই বলে, তোমার চেয়ে ভাল পারবো, এটুকু নিশ্চিত!
এতকিছু বললাম, আসলে কি বলতে চাচ্ছি তা যদি না বোঝ, তাহলে আমার আর কিচ্ছু করার নেই। একটা মেয়ে হয়ে তোমাকে চিঠি লিখছি, এটা তোমার সাত জন্মের ভাগ্য! ধ্যুর, তুমি কিচ্ছুই বোঝ না। আচ্ছা, মানুষটা যেহেতু তুমি, তাই তোমার মগজের দিকে লক্ষ্য রেখে আরেকটু বলছি; তুমি ছেলেটা একটু বেশি লাফালেও, একেবারে মন্দ নও। আর কারোর কেমন লাগে জানিনা। তবে, আমার কিন্তু তোমাকে বেশ লাগে!
এইরে! অনেক বেশি বলে ফেললাম! আর একটুও বলবো না। এরপরও কিছু না বুঝলে তোমার আর বোঝার দরকার নেই। লাফিয়ে লাফিয়েই তোমার দিন কাটুক।

                                                                                                               ইতি
তোমার ঠিক পরের রোল নাম্বার যার

কথায় কথায়

:জীবনটা বড্ড বেশি যান্ত্রিক।
:তাই নাকি? তুমিও?
:হুমম, আমিও। অ্যালার্মের শব্দে ঘুম ভাঙ্গে আমার।
:তাই নাকি?? তারপর?
:তারপর আর কি? ঘড়ির সময় দেখা।
বাথরুমে দৌড়। প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেয়া।
:কি শুরু করলে? এত কিছু বলতে বলেছি?
:কেন? তুমিই না বলতে বললে। আমি বলবো না?
:না তা বলনি।
:তবে?
:মানে এতকিছু না বললেও আমি বুঝি কিনা।
:তাই, আমি না বলতেই কি কি বোঝ তুমি?
:অনেক কিছু।
:তার মাঝেই সামান্য কিছু শুনি??
:এই যেমন তুমি আমাকে নিয়ে বেশ ভাব।
:আচ্ছা! আর?
:তুমি মানুষটা খুব ব্যস্ত। কিন্তু, অবসর চাও না।
:তাই নাকি?? এটাতো ভেবে দেখিনি!!
:তুমি নিজেকে নিয়ে ভাব কম। কিন্তু শঙ্কা অনেক।
:কথা মিথ্যা না। তারপর??
:জীবনটাকে খুব সাধারন ভাবে দেখতে চাও।
:জীবনটা সাধারনই।
:কিন্তু, তোমার কাছে তোমার জীবন অসাধারন!
:চিন্তার কথা!! ভাবতে হবে।
:তুমি খুব লাজুক। অনেক কিছু বলতে চাও। কিন্তু, বলো না।
:এইটাতো সবাই বলে। নতুন কিছু বলো।
:ইদানিং মনে হচ্ছে প্রেমে পরেছো কারো।
:তাই নাকি?? চিন্তার কথা!! কার প্রেমে পরলাম বলতো?
:সেটা আমিও জানি না। তবে, তোমার হাসি নিশ্চই জানে!
:আমার হাসি?? মানে যে বুঝলাম না!
:তোমার হাসি বলে, তুমি প্রেমে পরেছো।
:তাই? আমার চোখ কিছু বলে?
:হ্যা, চোখও বলে তুমি প্রেমে পরেছো।
:এত কিছু বুঝলে, আর এটা বুঝলে না যে আমি কার প্রেমে পরলাম?
:এইটা তোমার হাসি কিংবা চোখ, কোথাও লেখা নেই।
:আমার হাসি তুমি কীভাবে দেখলে? কিংবা আমার চোখ?
:তোমার চোখের দিকে তাকিয়ে!
:তখন আমি কাকে দেখছিলাম?
:আমাকেই দেখছিলে হয়তো। আরতো কেউ ছিল না সেসময়।
:বাহ! তা, তোমার চোখে আমি চোখ রাখলাম? আর তুমি আমার চোখে প্রেম দেখলে?
:হ্যা, দেখলামতো। দেখেছি বলেইতো এত আত্মবিশ্বাস!!
:তাহলে, তোমাকে দেখতে গিয়ে আমার চোখে প্রেম ধরা পরে!
:হুমম। পরেতো। আমার চোখ বলে কথা। ফাঁকি দেবে কীভাবে?
:এতকিছু বুঝলে। আর কার প্রেমে পরলাম সেটা বুঝলে না?
:নিজেই বুঝে নাও না?
:আমি?
:হ্যা তুমি। একটু আগেই বললাম, বড্ড লাজুক তুমি।
:তাই বলে তুমিও?? হাসি পাচ্ছে? মজা পাচ্ছ আমার অবস্থা দেখে?
:না পাচ্ছি না। তবে কিনা, তোমার সাথে এই আমার এক দারুন মিল।
:কি মিল?
:আমিও তোমার মতই লাজুক!
:সর্বনাশ!! তাহলেতো সব আশা শেষ!!
:শেষ হওয়ার কি আছে? চলুক না এভাবেই?? বুঝলেই কি বোঝাতে হবে?
:ঠিক!! তুমি আমি বুঝলেই হবে। বাইরের মানুষের বোঝার কি দরকার?
:নাহ! কোন দরকার নেই।
:কিন্তু, আমার বোঝাটা না হয় বুঝলাম। কিন্তু তোমার বোঝাটা??
:সেটা জানার কি খুব দরকার?
:হুমম দরকার।
:আমার হাসি দেখে বোঝ না? কিংবা আমার চোখ? যেমনটা আমি বুঝতে পারি?
:পারিনা তো! এত রহস্যা! এত বিষ্ময়!! আমিতো তাকাতেই সাহস পাই না?
:তাহলে, এই রহস্য, বিষ্ময়গুলো পেলে কোথায়?
:সাহসী হতে ইচ্ছে করে মাঝে মাঝে।
:ওহ! শুধু সাহস থাকলে হয়? বুদ্ধিও লাগে।
:আমার বুদ্ধি লোপ পেয়েছে যে।
:তাই? নির্বুদ্ধি লোককে কার ভাল লাগবে বলো?
:তাই বলে তোমারও ভাল লাগবে না?
:লাগে...... লাগে।
:তাহলে? আমার মাথাটা গুলিয়ে যাচ্ছে।
:এত গুলিয়ে যাওয়ার কিছুই হয়নি।
:তুমি এভাবে বললে, মাথাটা গুলিয়ে যাবে না?
:আরে ধুর! বললাম না, আমিও তোমার মতই লাজুক!
:তাই!! আমি যা ভাবছি, মানে আশা করছি, তাই কি তবে ঠিক?
:হুমম... ঠিক
J

              ******

অষ্টমী পূজার ব্যতিক্রমী সকাল

                                           

শারদীয় দূর্গা পূজাটা এবার একেবারেই অন্যরকমভাবে কাটছে আমার সেটা অবশ্য অন্য ব্যপার তবে আজ সকালে একটু অন্যরকম ভাবনা মাথায় খেলা করছিল ব্যপারটা খুলেই বলি
     আজ সকালেও অন্যান্য বছরের অষ্টমীর দিনগুলোর মত উপবাস থেকে গিয়েছিলাম মন্ডপে পূজা দিতে বগুড়ার জ্বলেশ্বরীতলা কালী মন্দিরে আজ সকালে স্বাভাবিকভাবেই ছিল বেশ একটা সাজসাজ রব পূজা শেষে, প্রথমে মহিলারা অঞ্জলী দিলেন তারপর আমরা, মানে ছেলেরা তারপর ক্রমেই মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে আমি আমার মা জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম প্রায় আড়াই ঘন্টা বসেছিলাম একাই; আসলে, বগুড়ায় অল্পদিন হলো এসেছি, তার উপর পড়াশুনা করছি বাইরে আর আমিতো একটু বেশিই ঘরকুনো তো বসে বসে দেখছিলাম সবাইকে পূজার মন্ডপে মহিলাদের উপস্থিতি সবসময়ই বেশি কারনটা আমি ঠিক বুঝি না ছেলেদের কি ধর্ম কর্মে মন কম??
     বসে থাকতে আমার বিরক্ত লাগছিল না জায়গাটা অবশ্যই আর পাঁচটা পাবলিক প্লেসের মত নয় একসাথে এতগুলো মানুষ প্রত্যেকের পরণে আছে পরিষ্কার নতুন কাপড় তারা সবাই এসেছে পুজো দিতে এক জায়গায় এতগুলো মানুষ, কিন্তু বলা চলে তাদের কারোর মনেই কোন অন্যায় চিন্তা নেই ভাবতে ভালোই লাগে
      আমি বসে বসে দেখছিলাম সবাইকে আবার ভাববেন না, আমি বসে বসে মেয়ে দেখছিলাম!! আসলে আর কিই বা করার ছিল আমার? দেখছিলাম আর মনে মনে গল্প বানাচ্ছিলাম সবাইকে নিয়েই গল্প বানাচ্ছিলাম একসময় দেখলাম দুইজন মেয়ে ঢুকল মন্ডপে তাদের মাঝে একজন বিবাহিত অপরজনের  মধ্যে যে ব্যক্তিত্ব, তা চোখে পড়ার মতই তারা পুরোটা সময় একসাথে ছিল আমি গল্প বানাতে শুরু করলাম  সম্ভবত তারা দুইবোন মেয়েটি এসেছে তার দিদির সাথে হয়তো সে পড়শোনা করে বাইরে কোথাও হয়তো পড়শোনায় সে অনেক ভাল তার চশমাটা দেখে মনে হচ্ছিল ছোটবেলা থেকেই সে ওটা ব্যবহারে অভ্যস্ত আর তার দিদির বিয়ে হয়েছে মাত্র কয়েক বছর হলো দিদিকে খুব মিস করে সে পূজার ছুটিতে বাসায় আসার জন্য গত প্রায় একমাস ধরে এই দিনগু্লোর জন্যই অপেক্ষা করে ছিল সে দিদিকে পেয়ে খুব খুশি সে এরপর বাসায় গিয়ে হয়ত তারা দুইজন ঝাঁপিয়ে পড়বে কাজে অনেক আত্মীয়-স্বজন,পাড়া প্রতিবেশী, বন্ধুরা আসবে অবশ্য এই মেয়েটার বন্ধুতো দূরের কথা, সম্ভবত বান্ধবীও খুব কম অত্যন্ত পারসোনালিটি সম্পন্ন এই মেয়েটাকে বখাটে ছেলেরা  উত্তক্ত করার সাহসই হয়তো পায় না দূর্ভাগ্যবশত আমার কোন বোন নাই তবে নিশ্চিত, আমার বোন থাকলে তাকে আমি এমন পারসোনালিটি সম্পন্নই বানাতাম, মানে বানিয়েই ছাড়তাম!!
            আমি কোন গল্পকার নই তাই কাহিনী জমল না গল্প বাদ দিয়ে নিজের কথা ভাবতে শুরু করলাম ওদের দুইজনকে দেখে মনে মনে শ্রদ্ধা জাগছিল আমার মনে হচ্ছিল, মেয়েদের এমনই হওয়া উচিত
           কিন্তু মেজাজটা হঠাতই খারাপ হয়ে গেল যে বলছিলাম, এখানেসবাই এসেছে পুজো দিতে একজায়গায় এতগুলো মানুষ, কিন্তু বলা চলে তাদের কারোর মনেই কোন অন্যায় চিন্তা নেই”, এই চিন্তাটা ভুল প্রমানিত হল আমি বসেছিলাম কয়েকটা অল্প বয়েসী ছেলের পেছনে মেলায় হাতেগোণা কয়েকটা ছেলে ওখানেই আছে ছেলেগুলোকে দেখলাম, যে মেয়েটার কথা এতক্ষণ বলছিলাম, তার ছবি তুলার চেষ্টা করছে!! পেছনে ছিল পুলিশ তারপরও দেখলাম তারা চেষ্টা করছে পারেনি অবশ্য তবে তাদের এই চেষ্টা দেখে এতই রাগ হলো আমার, যে কি আর বলব মন্ডপে আরো অনেক মেয়ে ছিল তারাতো কম সুন্দরী নয় অথচ এই মেয়েটা কি শ্যামলা খুব সুন্দর সে নয় তবুও একেই কেন.........? হয়তো মেয়েটার পারসোনালিটির কারনেই তার আশেপাশে ঘ্যাঁষার সাহস পাচ্ছিল না তাই.........
   তারা সফল হতে পারেনি ছবি তুলতে সফল হলে আমি এর একটা প্রতিবাদ করতাম যদিও আমি সেখানে নতুন, কিইবা করতাম? অষ্টমী পূজার পবিত্র সকালটা আমার কাছে আর পবিত্র মনে হলো না
        বেলা প্রায় সাড়ে ১২টার দিকে পূজার প্রসাদ নিয়ে আমি আর মা মন্ডপ থেকে বেড়িয়ে রিক্সায় উঠলাম দেখলাম, দুইজনও বের হয়ে আসছে মন্ডপ থেকে দুইজন একসাথে হাটতে হাটতে এগোতে লাগলো রাস্তা দিয়ে আমার মনে হলো, এই মুহূ্র্তে ওরাই এই পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ, অথচ শত্রুর অভাব নেই আশেপাশে!