শনিবার, ২৮ জুন, ২০১৪

"জন্মই আমার আজন্ম পাপ"

খুব ছোটবেলার কথা গ্রামের এক স্কুলে কিছুদিন পড়ালেখা করেছিলাম যখন ক্লাস থ্রিতে পড়িতখন ক্লাস ওয়ানের এক ছাত্র আমাকে “মালাউন” বলে গাল দেয় আমি স্যরের কাছে নালিশ করি স্যার শুনে একটা মিষ্টি হাসি দিয়ে বললেন, “আচ্ছা আমি বলে দেবআর বলবে না ওই স্যার ছিলেন ওই স্কুলের সবচেয়ে রাগী শিক্ষক কারনে অকারনে সবাইকে ধরে মারতেন তার এমন মিষ্টি হাসি কিছুটা বিরল দৃশ্যই বটে আমি সেদিন বুঝিনিকেন যার বিরুদ্ধে আমি নালিশ করলামতাকে কিছুই বলা হলো না এক্ষেত্রে একটা কথা বলা দরকারআমি প্রথম দিনেই নালিশ করতে যাইনি যখন দেখেছি স্কুলের অনেক ছেলেই আমাকে এভাবে বলছেতখন বলেছি আসলেধর্ম নিয়ে তাচ্ছিল্য এত সাধারন একটা ব্যপার হয়ে দাঁড়িয়েছিলযে মাঝে মাঝে আমার মনে হয়েছে অন্য ধর্মকে এভাবে ছোট করাটা মনে হয় এদের ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের অংশ যে যত বেশি অন্য ধর্মকে ছোট করতে পারবেসে তত বেশি ধার্মিক পূজার সময় দেখতামপাড়ার সবাই আসতো মন্ডপে একসাথে বসে প্রসাদ খেত তারপর পূজা শেষেই মূর্তি পূজা নিয়ে অশ্লিল কথাবার্তা শুরু করতো আর হিন্দুরা মনেহয় জন্মগত ভাবে বোবা হয়ে জন্মায় এদেশের হিন্দুদের সাহস নেই কারো সামনে কোনকিছুর প্রতিবাদ করার তারা পারে শুধু সবার আড়ালে চোখের জল ফেলতে আর ঘটি বাটি বিক্রি করে ভারতে চলে যেতে
ছোটবেলা থেকে অনেক মুসলমান বন্ধু পেয়েছি যাদের কাছে বন্ধুত্ব নিয়ে কোন অভিযোগ নেই তাদের সাথে বন্ধুত্বের মাঝে কখোণ “ধর্ম” আসেনি কিন্তুএকটা প্রশ্ন সবাই করেছে, “কেন হিন্দুরা এত বেশি ভারতে যায়?” উত্তরটা সবাই শোনে কিন্তুকেউ অনুভব করে না তারা বুঝে পায় নাচোখের সামনে যখন সহস্র বছরের পুরাতনবহু আবেগে সিক্ত মন্দির ভেঙ্গে ফেলা হয়ঘরবাড়ী জ্বালিয়ে দেয়া হয়সর্বস্ব কেড়ে নেয়া হয়সুন্দরী মেয়ে থাকলে তাকে ইচ্ছামত ধর্ষন করা হয় শুধুমাত্র হিন্দু হওয়ার অপরাধেতখন এই হত দরিদ্র মানুষগুলোর পালানো ছাড়া আর কী করার থাকেযে মানুষগুলো এদেশ থেকে নিজের ধর্মের জন্য পালিয়ে যায়তারা কি ঐদেশে যেয়ে খুব সুখে থাকেথাকে না থাকার কথাও নয় ভিন দেশে গিয়ে প্রাপ্য সম্মান তারা স্বাভাবিকভাবেই পায় না তবুও তারা খুশি তাদের বক্তব্য খুব পরিষ্কার, “এখানে কেউ হিন্দু বলে ঘর পুড়ায় না কি কপাল নিয়েই জন্মিয়েছে এদেশের হিন্দুরাএদেশে সংখ্যালঘু দেশে রিফিউজি!
আস্তে আস্তে বড় হলাম ২০০১ সাল আমি তখন ক্লাস সিক্সের ছাত্র জোট সরকার ক্ষ্মতায় আসলো শুরু হলো আরেক দফা সংখ্যালঘু নির্যাতন আমার অনেক আত্মীয় স্বজন প্রান বাঁচানোর জন্য পালিয়ে গেল ভারতে হুমাউন আজাদ স্যারের “পাকসার জমিন সাদ বাদ” বই কেউ পড়ে থাকলে তার ধারণা পাওয়ার কথা অবস্থা কেমন ছিল তখন এত কিছুর মাঝেও হিন্দুরা পূজা অর্চণা করতো সমাজে টিকে থাকার চেষ্টা করতো দেশের মাটিতে কামড়ে পড়ে থেকে যেসব হিন্দুরা ধর্মীয় কর্মকান্ড চালাতোতাদেরকে মনে মনে স্যালুট জানিয়েছি আমি কিন্তু তারপরো অনেক বন্ধুকে দেখলাম দেশ ছাড়তে পড়াশোনায় খুব ভাল ছিল আমার কয়েকটা হিন্দু বন্ধু তাদের বাবা মা তখন শংকিত তাদের ছেলেমেয়েরা যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরী পাবে কিনা তখন দেশের যে অবস্থাতাতে হিন্দুদের জন্য  এসব সম্ভাবনা নাকচ না করাটাই বোকামী অবস্থা যেদিকে গড়াচ্ছিলতাতে ধরেই নেয়া যায় হিন্দুদের জন্য এদশে বসবাসের অযোগ্য হয়ে যাবে খুব তাড়াতাড়ী তাই সময় নষ্ট না করে যা করার দ্রুত করা উচিত ফলাফল চোখের সামনেই দেখতে পেলাম হঠাত করেই ক্লাসের অনেক হিন্দু ছেলেদের দেখলাম দিনের পর দিন অনুপস্থিত পরিশেষে জানতে পারলামতারা সবাই এখন ভারতে কিছুদিন আগে ফেসবুকে অনেকের সাথেই যোগাযোগ হলো তারা সবাই ভালভাবে নিজেদের জায়গা করে নিয়েছে সেখানে
ভারত পাকিস্তান খেলা ছিল বিভেদের আরেকটা বড় জায়গা আমি জানিনা আমি কতটা ঠিক বলছি কিন্তুএখন অবস্থা অন্যরকম হলেও ঐসময়হিন্দুরা ছাড়া আমি ভারত সমর্থক পেতাম না ভারত পাকিস্তান খেলা মানে যেন হিন্দু মুসলামান লড়াইকেউ কেউ এমনও বলতো, “আজ হিন্দুস্তান আর পাকিস্তান খেলা!” আমাকে যখন কেউ জিজ্ঞাসা করতোভারত কেন সাপোর্ট করআমি উত্তরে বলতাম, “স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতে অবদানের জন্য আর পাকিস্তানের সাথে লড়াঈ করেইতো আমাদের জন্ম পাকিস্তানতো আমাদের জাত শত্রু!” তাদেরর উত্তরটা খুব অদ্ভুত, “খেলার মধ্যে এসব আনা ঠিক না” আমার মতে একটা দল যখন একটা দেশের প্রতিনিধিত্ব করে তখন সেই দেশের ইতিহাস আর নিজের দেশের সাথে সেই দেশের সম্পর্ক অবশ্যই দেখা উচিত আমি জানতে চাইতাম, “তুমি কেন পাকিস্তান সাপোর্ট কর?” এক্ষেত্রে সবার উত্তর একটাই, “ভাল খেলে তাই আমি বললাতাম, “তাহলেতো অস্ট্রেলিয়া সাপোর্ট করা উচিত ওরাতো সবার চেয়ে ভাল খেলে“ ওই সময় অস্ট্রেলিয়া ছিল টানা তিন বার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন কিন্তু একথার স্বদউত্তর কিন্তু কখোণই পাইনি কেউ কেউ অবশ্য এত না ঘুড়িয়ে সরাসরিই বলে দিত, “আমরা মুসলমান মুসলমান ভাই ভাই খুবই মজার ব্যখ্যা আর হিন্দুরা কেন ভারত সাপোর্ট করে তার যত কারনই থাকুক না কেনব্যখ্যা একটাই, “মালাউনরাতো মালাউনদেরই সাপোর্ট করবে এখানেই শেষ না বাংলাদেশের সাথে পাকিস্তানের খেলা চলাকালেও কিছু কিছু ছেলেকে দেখতাম অয়াকিস্তান সাপোর্ট করতে এর যে কি ব্যখ্যা তা আমার আজো জানা নেই নির্লজ্য বেহায়া কিছু মেয়েকে দেখতামবাংলাদেশ পাকিস্তান খেলা চলাকালীন সময় বাংলাদেশের মেয়ে হয়ে গালে লিখে রাখতো, “Please Afridi, marry me” আর এত কিছুর পর হিন্দুরা যখন দেশ ত্যাগ করে অত্যাচারে অতীষ্ট হয়েতখন এই মানুষগুলোই(?) বলেহিন্দুদের নাকি দেশপ্রেম নেই থাকলে তারা এভাবে দেশ ছাড়তো না 
এক সময়স্যাটালাইটের কল্যানে ভারতীয় অজস্র চ্যানেল প্রবেশাধিকার পেয়ে গেল বাংলাদেশে বিটিভি নির্ভরতার যুগ তখন শেষ হিন্দি সিনেমার প্রাদুর্ভাব হয়ে ছড়িয়ে পড়লো সর্বত্র আর উঠতি বয়েসের ছেলে মেয়েদের কার্যকলাপগুলো ছিল অবাক হওয়ার মতই দেশের দেশপ্রেমিক সকল স্তরের মানুষ চব্বিশ ঘন্টা বসে বসে ভারতীয় এসব চ্যানেল দেখা শুরু করলো তখন তাদের কাজের মধ্যে দুইভারতীয় চ্যানেলগুলো দিন-রাত দেখা আর ভারতের সমালোচনা করা
যত বড় হচ্ছিলাম তত আমার বিষ্ময় বাড়ছিল বাংলাদেশের মত মুসলিম প্রধান দেশে ধর্মীয় অনুশাষনের অবস্থা এমন কেনধর্মীয় ব্যপার-স্যাপারগুলোর প্রতি আগ্রহ না থাকলেও এদেশের একজন নাগরিক হওয়ার সুবাদেইসলাম ধর্ম সম্পর্কে কিছুটা জানার সুযোগ হয়েছে যতটুকু জেনেছিইসলাম ধর্ম নাচগান এগুলো কোনকিছুকেই সমর্থন করে না মেয়েদের পর্দা করার কথা বলে আমি অবাক হয়েছি যে মানুষগুলো জাত শত্রু পাকিস্তানকে সাপোর্ট করে শুধুমাত্র ধর্মীয় কারনেসেই মানুষগুলোই আবার ভারতীয় এসব হিন্দি গোগ্রাসে গিলছে দিক বিদিক জ্ঞান শুণ্য হয়েকারিনার দেহ দেখলে তাদের আর ধর্মের কথা মনে থাকে না!
এর মাঝে আরো কিছু বিষয় আরো বেশি অবাক হওয়ার মত শাহরুখ খানসালমান খানদের নিয় অনেকেই গর্ব করে কারন তারা মুসলমান প্রশ্ন হচ্ছেতারা যেটা করছে তাকেতো ইসলাম সমর্থন করে না তাহলে তাদেরকে ধিক্কার না দিয়ে গর্ব করার কারন কী?
মাত্র কিছুদিন আগের কথা আমি আমাদের বিশ্ববিদ্যাল্যের একটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে যুক্ত তো আসন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে গানের রিহার্সেল চলছিল যে ব্যান্ডের সাথে কনট্যাক্ট করা হয়েছিলতারা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে একটু দূরে একটা ঘর ভাড়া নিয়ে প্র্যাকটিস করতো তো আমি গিয়েছিলাম সেখানে সন্ধ্যার দিকেআমি একটু বাইরে আসলামঘরের ভেতর গরম বেশি তাই অন্যরা তখনও প্র্যাকটিস করছিল কিন্তুগানের শব্দে তারা কেউ খেয়ালই করেনি যে সন্ধ্যা হয়ে গেছে এবং আজান হচ্ছে আমি রুমের বাইরে থাকায়আমাকে ওখানকার একজন এসে জিজ্ঞাসা করলো, “রুমের ভেতরে গান করছে কারা?” আমি বললাম, “রনি ভাইরা” ( ব্যান্ড দল, “রনি ভাইদের ব্যান্ড” নামেই পরিচিত) কথাগুলো বল আমি তখনই ভেতরে ব্যান্ড দলের পরধান রনি ভাইকে ডেকে আনলাম রনিভাই সেখানকার অত্যন্ত পরিচিত এক মুখ রনিভাই আসা মাত্রই পরিস্থিতি কিছুটা হালকা হয়ে আসলো লোকটা রনি ভাইকে বললো, “আজান হচ্ছে এখন গান করতেছেন এটা কি ঠিক আজান শেষ হলেইতো নামাজ শেষ হয় না এই সময়টুকুতো গান অফ রাখা উচিত আমরাতো হিন্দু না রনি ভাই খুব লজ্জিত হয়ে গেলেন বললেন, “আমি স্যরি আপনি আমার একটা উপকার করেন প্লিজ নামাজের সময় সূচীটা একটু দেবেন আমরা ঘড়ি দেখে  সময়টা গান অফ রাখবো আসলে এই রুমের মাধ্যে গানের শব্দে কিছুই শোনা যায় না লোকটা আবার বললো, “গান করবেন করেন কিন্তু এগুলোতো মানতে হবে আমরাতো আর মালাউনদের মত না রনি ভাই এবার আমার দিকে তাকালেন আমি মৃদু হাসলাম স্পষ্ট বুঝলাম রনি ভাই লজ্জিত হচ্ছেন তিনি সাথে সাথে বললেন, “না নাপ্রতিটা ধর্মকেই সম্মান করতে হবে খালি আমরা মুসলমান বলে মুসলমানদের সম্মান করবোতাতো না এবারে লোকটা বেশ উতসাহী হয়ে বললো, “কী বলেনহিন্দু হলেতো এই জায়গায় থাকতেই দিতাম নামেরে বের করে দিতাম ওদেরতো কথা বার্তার ঠিক নাই মালাউনরা এইসব নিয়মের বুঝবে কিমারলে মার খায় আর বলে, “ নেমারবিইতোআমরাতো মার খাওয়ার জন্যই আসছি!”” বলে হাসতে হাসতে লাগলো আমি সেখানে আর দাঁড়াতে পারিনি সহ্যও করতে পারিনি কিন্তু হিসাব মেলাতেও পারিনি গান বাজনাতো ইসলামে নিষিদ্ধ মুসলমান লোকইসলামের বিরুদ্ধে কাজ করলে সেইটা জায়েজআর হিন্দুরা করলে জায়েজ না হিন্দুদের মারার মজাই আলাদা কারন কীতারা মারলে মার খায় বেশি মারলে ভারতে পালায়!
এরকম হাজারো ঘটনা ঘটে চলেছেজন্মগতভাবে প্রতিবন্ধী হিন্দুদের জীবনে আমার অনেক বন্ধুই আমকে একটা প্রশ্ন করে, “আচ্ছাহিন্দু মেয়েদের এত ভাল লাগে কেন?” তাদের ভাষ্য হচ্ছে হিন্দু মেয়েদের নাকি খুব বেশি ভাল লাগে তাদের অনেকেরই জীবনের লক্ষ্য হিন্দু মেয়ে বিয়ে করা অবশ্যই হিন্দু মেয়ে বিয়ে করে ধর্মান্তরিত করা মানে যাকে বলে এক ঢিলে দুই পাখি মারা একটা ঘটনার কথা খুব বেশি মনে পড়ে আমাদের কলেজে এক হিন্দু স্যার ছিলেন স্যার লোক ভাল ছিলেন না প্রাইভেট পড়িয়ে টাকা ইনকাম করার জন্য যে বাড়াবাড়িগুলো করতেন তা কারোরই ভাল লাগার কথা নয় তার এই চরিত্র সবাই জানতো উনি ছিলেন কেমিস্ট্রির টিচার এদিকে আমরা বায়োলজি পড়তাম আরেক ম্যাডামের কাছে তো কীভাবে যেন ম্যাডামের কাছে পড়ার সময় হঠাত  রসায়ন স্যারের কথা উঠে গেল সবাই একযোগে  স্যারের সমালোচনা করতে শুরু করলো ম্যাডাম এই সময় অদ্ভুত একটা মন্তব্য করলেন বললেন, “যারা হিন্দু আছতারা কিছু মনে করো না আমার মনে হয় কি জানহিন্দু জাতটাই এরকম আমি স্তব্ধ হয়ে গেলাম শুনে সবাই শুনে হাসিতে ফেটে পড়লো হিন্দুরা অনেকেই মাথা নিচু করে মুখ লুকালো আমাদের মধ্যে প্রতিবাদী স্বভাবের ছিল একমাত্র শুভ্র শুভ্র ম্যাডামকে বললো, “আপনি একটা হিন্দু লোকের জন্যে এইভাবে ক্যান বললেন?” ম্যাডাম ম্যাডাম খুব সুন্দর মুখ করে বললেন, “আমিতো আগেই বলেছি কেউ কিছু মনে করো না!” মজার ব্যখ্যা মানে কাউকে আচমকা চড় মারলে তার যতটা ব্যথা লাগেমারার আগে একবার বলে নিলে ব্যথা কম লাগে! শুভ্র সাথে সাথে বললো, “ আপনিতো দাওয়াত দিয়ে নিইয়ে এসে অপমাণ করলেন মুসলমানরা যে সারা দেশে একযোগে ৬৪ টা জেলায় বোমা হামলা করলোতার কি বলবেন?” ম্যাডাম কিছুটা লজ্জিত হয়ে বললেন, “না না ঐটা আলাদা বিষয় জঙ্গিবাদের সাথে ইসলামের কোন সম্পর্ক নেই” এক্ষেত্রে বলে রাখা দরকারম্যাডাম ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগ করতেন এবং এখনো আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সরাসরি যুক্ত তো ম্যাডামের এই কথার উত্তরে শুভ্র বললো, “এত কিছু করলো আর সেইটা আলাদা ঘটনা আর একটা হিন্দু লোক খারাপ বলে আপনি গোটা জাতটাকে এইভাবে বললেন!” উপস্থিত ছেলেরা এবার প্রসংগ দ্রুত অন্যদিকে ঘুড়িয়ে দিল প্রাইভেট থেকে বেড়িয়ে সেদিন মনে হলোআর এই ম্যাডামের কাছে পড়বো না কিন্তু যে বললামএদেশের হিন্দুরা হলো জন্মগত ভাবে প্রতিবন্ধী প্রতিবাদের সাহস তাদের নেই আমিও তাদের বাইরে না

অনেক কথা বললাম এত কথা বললাম একটু হালকা হওয়ার জন্য আজকাল ফেসবুকব্লগের কারনে অনেক মুক্তমনা মানুষের সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ হয় তাদের অনেকের কাছ থেকে ধর্মের প্রকৃত ব্যখ্যা বুঝতেও পারি জানতে পারি এসব নিয়ে হিন্দুরা প্রতিবাদ করতে না পারলেওঅনেক মুসলমান মানুষ প্রতিবাদ করেন আজকাল অবশ্য  এসব কেউ বললেই সে নাস্তিক!  নাস্তিক হোক আর আস্তিক হোকসারা দেশে নতুন করে  শুরু হওয়া হিন্দুদের উপর অত্যাচারের প্রতিবাদ করছেন অন্নেকেই দেশ পাল্টিয়েছে অনেকটাই এদেশের সরকার হিন্দুদের মনে করে তাদের ভোট ব্যাংক তারা ভাল করেই জানেদেশে যতকিছুই হোক না কেনহিন্দুরা তাদের ভোট দেবেই দোষটা অবশ্যই হিন্দুদের আজকের যুগে যে জাতি প্রতিবাদ করতে জানে নাতাদের টিকে থাকার অধিকার নেই জন্মই হলো এদেশের হিন্দুদের আজন্ম পাপ

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন