“টাকায় কিনা হয়” এই প্রবাদটি বলার উপায়
নেই মিসেস
রিদিকা চৌধুরীর সামনে। তার মতে, টাকা দিয়ে নাকি
আসলে কিছুই
হয় না। গত কয়েকদিন ধরে এই
কথাটা খুব
বেশি বলছেন
তিনি। তিনি কেন এমন বলছেন চলুন ফিরে তাকাই এক
সপ্তাহ আগেঃ
মিসেস
রিদিকা চৌধুরীর স্বামী প্রায় আড়াই কোটী টাকার একটা প্রজেক্টের কাজে গিয়েছেন জাপানে। তাই বাসায় আছেন কেবল তিনি, তাঁর সতেরো বছর বয়সী
মেয়ে তমা, কাজের মেয়ে
সালমা আর
অ্যালসেসিয়ান কুকুর
লিজা। রিদিকা চৌধুরীর বয়স
এখন প্রায়
আটচল্লিশ। চেহারায় তার বয়সের
ছাপ একদম
স্পষ্ট। তো, রাত তিনটার দিকে হঠাত ঘুম ভাংলো
তার। মেজাজটা খুব খারাপ হয়ে গেল সাথে সাথে। হওয়ারই কথা। দারুন একটা
স্বপ্ন দেখছিলেন তিনি। দেখছিলেন জীবনের সেই সময়টাকে যখন তার
বয়স ছিল
সতের কি
আঠারো। অপূর্ব রূপবতী ছিলেনসে সময়। ইউনিভার্সিটির কত ছেলে
যে পাগল
ছিল তার
জন্যে! শুধু ছেলেরা না, টিচাররাও!! কাউকে পাত্তা দিতেন না অবশ্য। তবে এনজয় করতেন জীবনটাকে।
কিন্তু আজ কোথায় সেদিন? টাকা দিয়ে সব কেনা যায়, কিন্তু সময়? কোনভাবেই কি সম্ভব না, সেই সময়টাকে ফিরে পাওয়া?
ধীর পায়ে আস্তে আস্তে এগিয়ে গেলেন নিজের মেয়ের রুমের দিকে। নিঃশব্দে দরজা খুললেন। তারপর চাঁদের রূপালী আলোয় দেখতে লাগলেন নিজের মেয়েকে। ঠিক এমনি ছিলেন তিনি তার এই বয়সে। মুগ্ধ নয়নে দেখছেন তিনি তার মেয়েকে। কি মসৃন ত্বক! সারা শরীরে যেন আলোর দ্যুতি! যৌবন যেন সমস্ত অঙ্গে!! লাইফটাকে পুরোদমে এনজয় করছে। খাচ্ছে, ঘুরছে, বন্ধুর অন্ত নেই। দেশের জনপ্রিয় একজন মডেল তারকা। গোটা দেশের ছেলেরা পাগল যার জন্য! সে তারই মেয়ে। এবারে তিনি তাকালেন নিজের দিকে। কি অবস্থা তার! চামড়া কুঁচকে গেছে।একটু জোড়ে হাটতে পারেন না। ডায়বেটিস, তাই ইচ্ছেমত খেতেও পারেন না কিছু। আর তারই মেয়ে কিনা এত সুখে আছে? কেন???
“একসময়তো তুমিও ওর
মতই ছিলে”…নিজেকে স্বান্তনা দেয়ার চেষ্টা করলেন; কিন্তু পারলেন না। ক্রমেই রাগ বাড়তে থাকল। তিনি কি তার প্রানের চেয়ে
প্রিয় মেয়েকে হিংসা করতে
শুরু করলেন? বুঝতে পারলেন, আসলেই তিনি হিংসা করছেন, নিজের মেয়েকে! নিজেকেই ধিক্কার দিলেন তীব্রভাবে। কেমন মা তিনি?? কেন শুধু শুধু
নিজের মেয়েকে হিংসা করছেন, মানুষ শুনলে
কি বলবে?
মানুষ!! মানুষের কথা
ভাবতে গিয়েই
মনে পড়ে
গেল, “মেরিলিন মোনরো” এর কথা। ইতিহাসের সেরা অভিনেত্রীদের একজন মেরিলিন মনরো,
আত্মহত্মা করেছিলেন একেবারেই অল্প বয়েসে, জনপ্রিয়তার মধ্যগগণে থাকা অবস্থায়। বুড়ি হয়ে মরলেতো মানুষ তার ওই
বয়স্ক মুখটাকেই মনে রাখবে। মানুষ যেন তার সেরা
চেহারাটাকেই মনে
রাখে তাই এমন কাজ করেছিলেন করেছিলেন মেরিলিন মোনরো। তাহলে তিনিও কী
মেরিলিন মোনরোর মত………………??
নাহ! তাতে কোন
লাভ নেই। কারন যৌবনতো অনেক আগেই
শেষ তার। এখন মরলে মানুষ
তার এই
বূড়ি চেহারাটেকেই মনে রাখবে। এইবার মনে পড়লো তার
নিজের মেয়ের
কথা।তার মেয়েরতো এখন যৌবনকাল। সেইসাথে দেশের
জনপ্রিয় একজন
মডেল। তাহলে তার মেয়ে
যদি এখনি
মারা যায়, তাহলে নিশ্চয় দেশের মানুষও মেরিলিন মোনরোর মত তাকে
মনে রাখবে। হ্যা, তাই করবেন ঠিক
করলেন, মেয়ের ভালোর জন্যই
তাকে হত্যা
করবেন তিনি, এই রাতেই।
সকাল
হওয়ার আগেই
যা করার
করতে হবে।প্রস্তুতি নেয়া
শুরু করলেন। মনের কোনে কেউ
যেন বলল,”নিজের মেয়েকে হত্যার পরিকল্পনা করছ, সেটা কি মেয়ের ভালোর জন্য? নাকি তার
প্রতি হিংসা থেকে? তোমার হিংসার আগুনে পুড়িয়ে মারার জন্য?”। বিবেককে বেশি পাত্তা
দিলে এমন কাজ করা যায় না। তাই ঐসব নিয়ে বেশি ভাবলেন না তিনি। মেয়েকে মেরে ফেলতে
হবে আজ রাতেই, এটাই শেষ কথা।
প্ল্যান মোটামোটি তৈরী। মেয়েকে ডেকে তুলবেন ঘুম থেকে। তারপর বিষ মেশানো শরবত খেতে বলবেন। এত রাতে এমন কাজ করাতে মেয়ে আপত্তি করতে পারে। কিন্তু উনি রাজি করাবেন। মায়ের কথা মেয়ে ফেলবে কেন? কাজের মেয়ে কিছু বুঝবে না, সে এখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। সুতরাং কোনই সমস্যা নেই।
প্ল্যান মোটামোটি তৈরী। মেয়েকে ডেকে তুলবেন ঘুম থেকে। তারপর বিষ মেশানো শরবত খেতে বলবেন। এত রাতে এমন কাজ করাতে মেয়ে আপত্তি করতে পারে। কিন্তু উনি রাজি করাবেন। মায়ের কথা মেয়ে ফেলবে কেন? কাজের মেয়ে কিছু বুঝবে না, সে এখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। সুতরাং কোনই সমস্যা নেই।
কাজ যখন প্রায় শেষের দিকে,
ঠিক তখন
ফোন করলেন
তার স্বামী, “শোন, আমার কাজ ছিল
অনেক, কাজ শেষ হতে
অনেকদিন
সময় লাগবে। কিন্তু, অতদিন
তোমাকে না
দেখে থাকা
আমার দ্বারা সম্ভব না। তাই প্রজেক্টটা
বাদই দিলাম।”এক নিঃশ্বাসে
বলে চললেন
রিদিকা চৌধুরীর স্বামী। রিদিকা চৌধুরী উদ্বিগ্ন হয়ে বললেন, “আড়াই কোটি
টাকার প্রজেক্ট বাদ দিয়ে
চলে আসবে!! কী দরকার?”। “কী হবে অত
টাকা দিয়ে, যদি তোমার
মুখটাকেই না
দেখতে পেলাম!! এখানে আসার
পর থেকে
শুধু তোমার
কথাই মনে
পড়ছে। তোমাকে না দেখে
সত্যিই আর থাকতে পারছি না। তুমি থাক, কালই আমি আসছি” জানিয়ে দিলেন
আবেগ আপ্লুত গলায়। বিষ্ময়ে হতবাক হয়ে রইলেন রিদিকা চৌধুরী। এখনও তাকে
এত ভালোবাসেন তাঁর স্বামী! এই বূড়িকে!! তাহলে কি
যৌবনটাই শেষ
কথা নয়? স্তম্ভিত হয়ে বসে
রইলেন অনেকটা সময়।
তারপর আবার গিয়ে ঢূকলেন মেয়ের
ঘরে। পরম মমতায় হাত
বুলিয়ে দিলেন
মেয়ের গায়ে। মুহুর্তের হঠকারিতায়,
কি সর্বনাশা কাজটাই না
করতে যাচ্ছিলেন তিনি!!
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন