"মুনীর, এক কাপ চা খাওয়াতো ভাই।" দুপুর একটার সময় ঘুম ঘুম চোখে এসে
দোকানে বসে খানিকক্ষণ আড্ডা দেয়ার পর কথাটা বললো পূষণ। পূষন দুধ চা খায়, আর চায়ে চিনি
একটু কম খায়, এটা মুনীর খুব ভালভাবে জানে। তাই দ্বিতীয় কোন প্রশ্ন করলো না সে।
শুধু পূষণ না, তার দোকানের সব কাস্টোমারের পছন্দ অপছন্দের খবর সে রাখে। পাশ থেকে সিফাত ফাজলামি করে বললো,
"চাইলে
এক চাপ কা খাওয়াতে পারিস"।
সকাল বেলার নাস্তাটা অমি প্রায়ই এখানে করে। একটা বিস্কুট আর
চা। আসলে সবাই মিলে আড্ডা দেয়ার জন্য মুনীরের দোকানটা একেবারে যাকে বলে
“পারফেক্ট”। চা নিয়ে এসে টবিলের উপর দড়াম করে রেখেই মুনীর বলে উঠলো, “সিফাত ভাই!
ভাল হয়ে যান। আপনার আচার আচরণ কিন্তু সুবিধার না! দিন দিন ফাযিল হয়ে যাচ্ছেন”।
সামনে চুপচাপ বসে থাকা একটা ছেলে ভীষন অবাক হয়ে গেলো, “একটা চা’র দোকানদার, তাও
আবার এইটুকু ছেলে, সে ভার্সটির ছাত্রদের সাথে এভাবে কথা বলছে!! এতো কঠিন বেয়াদব!”
আসলে ছেলেটা নিউ ফার্স্ট ইয়ার। তাই জানে না, মুনীর এমনই। সবার সাথে ওর এরকমই
সম্পর্ক। ওরা চা খেলো এক কাপ করে। কিন্তু আড্ডা দিল অন্তত এক ঘন্টা।
বিকালে ক্লাস শেষ করে সবাই আবার মুনীরের দোকানে। এটা আশা নিরাশা, আনন্দ বেদনার একটা জায়গা। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা পড়া লেখা করেছে, তারা সবাই এই জায়গাটাকে আলাদাভাবে মনে রাখে। যারা পাশ করে গেছে, তারাও কখনো এখানে আসলে মুনীরের খবর আগে নেয়।
রাত আটটার দিকে অমি যখন হলে আসলো, হলের ক্যান্টিনে এসে দেখে মুনীর এসে বসে আছে। মজার ব্যপার মুনীর জোড় করে অমিকে চা খাওয়ালো!! ব্যপারটা খুব অদ্ভুত! মুনীর একটা সামান্য চা’র দোকানদার হয়ে নিজেই অন্যকে খাওয়াচ্ছে! বিজনেসের ছাত্র অমি অবশ্য এতে অন্য রকম একটা গন্ধ পেল। সে তার পাঠ্য বইয়ে পড়া “কাস্টমার রিলেশনশীপ” এর কথাগুলো মনে করলো। বুঝতে পারলো, মুনীর এভাবেই, অনেক চা’র দোকানদারের ভিড়ে নিজেকে একটু আলাদা করে রেখেছে।
রাত তখন প্রায় দুইটা পনেরো। অমি আর সিফাত বসে গল্প করছিল। হঠাত ওদের দু’জনের মাথায় কী ভূত চাপলো, তারা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললো, তারা এখনই বাইরে যাবে। তারা খুব ভাল করে জানে এত রাতে আর কোন দোকান খোলা না থাকলেও মুনীরের চায়ের দোকান অবশ্যই খোলা থাকবে। কনকনে ঠান্ডার মধ্য দিয়ে রওনা দিল দু’জন। যখন পৌছলো তখন দেখতে পেল সব দোকান বন্ধ কিন্তু মুনীরের দোকান ঠিকই খোলা! এবং কয়েকজন বসেও আছে সেখানে!!
অল্প বয়েসী ছেলে মুনীর। কিন্তু জীবনের সাথে যুদ্ধ করতে করতে সে ঠিকই শিখে নিয়েছে কীভাবে বেঁচে থাকার জন্য নীরবে যুদ্ধ করে যেতে হয়। আশেপাশের অনেক বয়স্ক দোকানদারদের সে দিব্যি টেক্কা দিয়ে যাচ্ছে, শুধুমাত্র বুদ্ধি দিয়ে আর কঠোর পরিশ্রম করার মানসিকতা দিয়ে। অমি অবাক হয় এসব দেখে। শারীরিকভাবে রীতিমত শক্ত সমর্থ লোকগুলো যখন এসে ভিক্ষা চায়, তখন মুনীরের কথা মনে পরে ওর। এই মুনীরের কাছে সবারই শেখার আছে অনেক কিছু। কীভাবে সে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সব ছাত্রের মনে জায়গা করে নিয়েছে!কীভাবে সে হয়ে উঠেছে এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই একজন!
বিকালে ক্লাস শেষ করে সবাই আবার মুনীরের দোকানে। এটা আশা নিরাশা, আনন্দ বেদনার একটা জায়গা। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা পড়া লেখা করেছে, তারা সবাই এই জায়গাটাকে আলাদাভাবে মনে রাখে। যারা পাশ করে গেছে, তারাও কখনো এখানে আসলে মুনীরের খবর আগে নেয়।
রাত আটটার দিকে অমি যখন হলে আসলো, হলের ক্যান্টিনে এসে দেখে মুনীর এসে বসে আছে। মজার ব্যপার মুনীর জোড় করে অমিকে চা খাওয়ালো!! ব্যপারটা খুব অদ্ভুত! মুনীর একটা সামান্য চা’র দোকানদার হয়ে নিজেই অন্যকে খাওয়াচ্ছে! বিজনেসের ছাত্র অমি অবশ্য এতে অন্য রকম একটা গন্ধ পেল। সে তার পাঠ্য বইয়ে পড়া “কাস্টমার রিলেশনশীপ” এর কথাগুলো মনে করলো। বুঝতে পারলো, মুনীর এভাবেই, অনেক চা’র দোকানদারের ভিড়ে নিজেকে একটু আলাদা করে রেখেছে।
রাত তখন প্রায় দুইটা পনেরো। অমি আর সিফাত বসে গল্প করছিল। হঠাত ওদের দু’জনের মাথায় কী ভূত চাপলো, তারা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললো, তারা এখনই বাইরে যাবে। তারা খুব ভাল করে জানে এত রাতে আর কোন দোকান খোলা না থাকলেও মুনীরের চায়ের দোকান অবশ্যই খোলা থাকবে। কনকনে ঠান্ডার মধ্য দিয়ে রওনা দিল দু’জন। যখন পৌছলো তখন দেখতে পেল সব দোকান বন্ধ কিন্তু মুনীরের দোকান ঠিকই খোলা! এবং কয়েকজন বসেও আছে সেখানে!!
অল্প বয়েসী ছেলে মুনীর। কিন্তু জীবনের সাথে যুদ্ধ করতে করতে সে ঠিকই শিখে নিয়েছে কীভাবে বেঁচে থাকার জন্য নীরবে যুদ্ধ করে যেতে হয়। আশেপাশের অনেক বয়স্ক দোকানদারদের সে দিব্যি টেক্কা দিয়ে যাচ্ছে, শুধুমাত্র বুদ্ধি দিয়ে আর কঠোর পরিশ্রম করার মানসিকতা দিয়ে। অমি অবাক হয় এসব দেখে। শারীরিকভাবে রীতিমত শক্ত সমর্থ লোকগুলো যখন এসে ভিক্ষা চায়, তখন মুনীরের কথা মনে পরে ওর। এই মুনীরের কাছে সবারই শেখার আছে অনেক কিছু। কীভাবে সে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সব ছাত্রের মনে জায়গা করে নিয়েছে!কীভাবে সে হয়ে উঠেছে এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই একজন!
পরের দিন যথারীতি জমজমাট মুনীরের দোকান। অমি অবশ্য সারাদিন এটা সেটা
নিয়ে অনেক ব্যস্ত থাকায় ঐদিকে আর আসতেই পারেনি। দিনটা কীভাবে পাড় হয়েছে জানে না।
তারপরের দিন সকাল বেলা নাস্তা করতে এসে চোখ কপালে উঠে গেল অমির। কোথায় মুনীরের
দোকান? কোথাও কিচ্ছু নেই! মুনীরের আশেপাশে যে দোকানগুলো ছিল সেগুলোও নেই! কোথায়
গেল সবকিছু?
খোঁজ নিয়ে জানতে পারলো, অবৈধ স্থাপনা হিসেবে এলাকার বেশকিছু দোকানপাট ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। মুনীরের চা’র দোকান আর নেই!
খোঁজ নিয়ে জানতে পারলো, অবৈধ স্থাপনা হিসেবে এলাকার বেশকিছু দোকানপাট ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। মুনীরের চা’র দোকান আর নেই!
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন