কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ২৮ জুন, ২০১৪

অবশেষে দেখা হলো


আমাদের দেখা হয়েছিল বললে ভুল হবে।
হয়তো শুধু আমিই দেখেছিলাম তোমাকে।
অপলক চোখে তাকিয়েছিলাম।
খুব কাছ থেকে দেখেছি তোমাকে।
ছুঁয়েছিলাম তোমার চুল। তোমার হাত।
তুমি হয়তো বুঝতেও পারোনি।
অথবা পেরেছো। কি করে বুঝবো বলো।
তোমার সাথে দেখা করার জন্য গুনে প্রহর।
উত্তেজনায় ঘুমতে পারিনি রাতের পর রাত।

অবশেষে সেই সময়টুকু এলো।
তোমাকে দেখার জন্য কত কত আয়োজন।
সূর্যের আলো, পাখির ডাক, উন্মাতাল বাতাস
সবই যেন শুধু তোমাকে দেখার জন্য।
সেই তোমাকে আমি দেখলাম! অবশেষে দেখলাম!
কফিনের ডালাটা একটু ফাঁক করে।
চোখ রাখলাম তোমার তোমার বিস্ফারিত চোখে।



আমি বারবার প্রেমে পরছি

আজ পর্যন্ত কতবার যে
তোমার প্রেমে পরলাম
হিসেব করে দেখিনি কখনও।
প্রথম তোমাকে ভাল লেগেছিল
তোমার উচ্ছলতা দেখে।
তবে প্রেমে পরিনি তখনও!
প্রেমে পরলাম প্রথমবারের মত
তোমার নিঃস্তব্ধতা দেখে।
প্রেমে পরলাম তোমার সহ্যশক্তি দেখে।
প্রথম প্রেমে পরার কথা
প্রথম যখন  জানালাম তোমায়
তোমার চোখভরা বিষ্ময় দেখে
আরও একবার প্রেমে পরলাম!
তৃতীয়বার তোমার প্রেমে পরলাম
তোমার ভালবাসা জানানোর ধরন দেখে।

তারপর বারবার প্রেমে পরেছি......বারবার।
প্রেমে পরেছি তোমার ভালবাসার ক্ষমতা দেখে।
প্রেমে পরেছি... কখনও ভালবেসে...কখন বিরহে।
আজ আমি সবকিছুই ভালবাসি তোমার...
কষ্ট, তোমার দৃষ্টি...তোমার সব।

প্রতিটি মূহূর্তে আমি তোমার প্রেমে পরি।
ক্ষণে ক্ষণে নতুন করে আবিষ্কার করি তোমাকে

আর যখন তুমি বলো...”ভালবাসি”
আমি বারবার ফিরে পাই
আমার সেই প্রথম প্রেমের প্রথম ছোঁয়া

সত্যিই ভাল খবর নেই ?

চারিদিকে শুধু রেষারেষির খবরই চোখে পরে
কোথাও কি নেই একটা ভাল খবর?
রাগ আর বিরক্তি একেবারে তুঙ্গে।
টিভির খবর শুনতে বসে মুখটা হলো ব্যাজার
এমন খবর শুনতে চাই কি শুধু?
কোথায় কে খুন হলো আর কোথায় মিললো লাশ
লাশটা আবার টুকরো হলো কত।
ধর্ষিতা আর ধর্ষণের খবর কাটতি ভালই হয়
তারকাদের স্ক্যান্ডাল আর নেট থেকে তা ডাউনলোড!
এমনি করেই দিন যদি যায়, চলবে তবে কেমন করে?
ভাল খবর নেই কি দেশে? নেই কি কিছু খুশি করার?
হতাশ যখন এসব দেখে, চোখটা তখন বন্ধ তোমার।

বাচ্চাটা মেয়েটা তোমার কাছে দশ টাকা নেয় প্রতিদিন।
সেই টাকা জমিয়ে সে কিনবে কিছু এই ঈদেই!
সেই মেয়েটাই জমানো টাকার পুরোটা দিলো কোথায় জান?
বড় আপুর মুখে সে শুনলো যখন এমন খবর,
টাকা নাই তাই বাঁচবে না হাসপাতালে ভর্তি ছেলে দুজন!

সাঁঝের বেলায়

সাদা আঁচলটা উড়ছে হাওয়ায়
চুলগুলো সবই এলোমেলো।
নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে সে একাই
দৃষ্টিটা প্রসারিত দূরে...শূন্যে...
দূর থেকে দেখছি তাকে আমি,
এভাবে কেটেছে দুই ঘন্টা।
মেয়েটা আছে এমনি করেই,
যেন গভীর কোন চিন্তা তার ।

মনে এলো সহস্র স্মৃতি।
এমনি সেই সাঁঝের বেলায়
আমরা হেঁটেছিলাম এ পথে।
আমার এ হাত ছিল তোমার হাতে।

তারপর...

দীর্ঘশ্বাসেরাও আজ বড্ড ক্লান্ত।
বাচ্চা মেয়েটার বয়স গেলো বেড়ে।
চিঠিতে সে জানিয়েছিল,
অনেক...অনেক ভাল আছে সে।
আমি অবশ্য হেসেছিলাম পড়ে।
ও মিথ্যা বললে আমি বুঝতে পারি!
তবুও, দিন যদি এভাবেই কাটে
তবে কাটুক না এভাবেই?

এরপর...

পত্রিকার পাতায় দেখলাম খবরটা।
ছুটে এসেছি তাই ওকে দেখতে।
শূন্য চোখে সে তাকিয়ে আর দিকে?
এই চোখে নেই কোন আশার চিহ্ন।
যেন বড় আকাঙ্খিত মৃত্যুর অপেক্ষায়
একমনে সে গুন চলেছে ক্ষন।


তবু...

ক্ষণিকের তরে মনে আসে শত চিন্তা।
জেগে ওঠে বহু কষ্টে দমিয়ে রাখা পুরনো আবেগ।

ধরবো কি ওর হাত?
যেমন ধরেছিলেম সেই বিদায় বেলায়?

সব জানি...তবুও...

অস্পষ্ট হয়ে আসছে সবকিছু
যেন সিগারেটের ধোঁয়ায় দেখছি তোমায়।
খেলনা পটকার শব্দ শুনে যেমন চমকে উঠি
ক্ষণিকের জন্য মনে হয় বোমা ফুটলো কোথাও,
ঠিক তেমনি করে প্রতি মুহূর্তে আমাকে কাঁপিয়ে দেয়
চিরতরে তোমাকে হারানোর ভয়।

তুমি আশ্বস্ত করো, আমি আছি...আমি আছি”
মৃত্যুপথযাত্রীকে যেভাবে জীবনের গল্প শোনাও তুমি।
আমি জানি, আজ তুমি আছো, আমি আছি
কালও তুমি থাকবে, থাকবো আমিও, পাশাপাশি।
হয়তো পরশুও তুমি থাকবে, তবে আমি থেকে অনেক দূরে।

তবুও আমি স্বপ্ন দেখি বাঁচার, মৃত্যু আগ মুহূর্ত পর্যন্ত বাঁচার

ঠিক যেভাবে একজন বোবা স্বপ্ন দেখে কথা বলার।
এবং একজন জন্মান্ধ স্বপ্ন দেখে পৃথিবীটা দেখার।



চিরচেনা অতীত

অজানার পথে আমি।
পেছনে ফেলে আশা অতীত
বারে বারে চেনায় আমায়।
বর্তমান বলে সাবধান হও।
তবু ভবিষ্যত দেখায় স্বপ্ন,
বর্ণিল স্বপ্ন! করে ধাঁধার সৃষ্টি।
বেঁচে থাকার অবলম্বন তখন
আমার একান্ত আপন কল্পনাগুলো।
কল্পনার ধুম্রজালে আমি ভুলে যাই-
কি ছিল অতীত। কি আমার বর্তমান।
ভেসে যাই স্বপ্নিল ভবিষ্যতের নেশায়।
একসময় সেই ভবিষ্যত আবারো
 ফিরিয়ে আনে আমার সেই চিরচেনা অতীতে।

মা

কিছু কিছু সময় খুব অদ্ভুত
কিছু কিছু মুহূর্তের কোন ব্যখ্যা নেই।
মুহূর্তগুলো আসতে পারে প্রত্যেক দিনেই।
কিংবা প্রতি মাসে একবার।
তবে বছরে কয়েকবারতো বটেই।
এই মুহূর্তগুলোতে কাউকে আপন করা যায় না।
বন্ধুদের আড্ডায় নিমন্ত্রনকে
মনে হয় উত্যক্ত করার নতুন কৌশল।
এমনকি প্রেমিকার ফোনও যেন
 বিরক্তি কমাতে পারে না এতটুকু।

সময়টা যেন নিয়ে আসে বিশাল কোন এক আয়জন।
যে আয়জনে সাজিয়ে রাখা থাকে
 জীবনের সমস্ত হতাশার মুহূর্তগুলো।
জীবনের সমস্ত ব্যার্থতাগুলো যেন
 সশব্দে তাচ্ছিল্য করতে থাকে।
সেই হাসি দিয়ে তারা জানিয়ে দেয়,
 “তুমি একজন অপদার্থ”


এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকাটাই
যখন অর্থহীন হয় নিজের কাছে
তখন কেউ একজন কানের কাছে
কিছু একটা বলে চুপিসারে...
শোনার চেষ্টা করলে বোঝা যায়
 সে বলছে, “বাঁচো! তবুও বাঁচো”
কন্ঠস্বরটা পরিচত। খুবই পরিচিত।
অনেক অনেক চেনা এই কথাগুলো।
বহু পুরাতন এইসব কথাগুলো,
 তবুও যেন মাঝে সঞ্জীবনী সুধা বিদ্যমান!
আস্তে আস্তে সেই কন্ঠের অধিকারীনির মুখও
 ভেসে ওঠে আমার চোখের সামনে।
জন্মের আগে যার ভেতরে বাস করতাম
এটা মুখখানি যে তারই!


যখন আমি থাকবো না

যখন আমি থাকবো না আর
থাকবে না এই বাক্যগুলো
,
যখন তোমার সব হবে আর
আমার ঘরে জমবে ধূলো।
তোমার মেয়ে তোমার কোলে
হাসবে যখন ভুবন ভরে
,
কান্নাগুলো আমার তখন
বৃষ্টি হয়ে পরবে ঝরে।

কাটবে দিন এমনি করে
আসবে সময় বছর ঘুরে।
বয়স যখন ষাটের ঘরে
মেয়েটাও তখন পরের ঘরে।
একলা বসে নিজের ঘরে।
বইবে সময় অবসরে।
এমনি করেই নামবে রাত।
তারায় তারায় হাসবে চাঁদ।
তুমি তখন রইবে নিজের সনে।
আমার কথা পরবে তখন মনে? 

নীরবতা

গাছের একটা পাতা যখন ঝরে যায়
তার শব্দ কি সবাই শুনতে পায়?
রাতের তারাগুলো যখন খসে পরে এক এক করে
আমরা তখন ঘুমে মগ্ন থাকি।
কান্নার শব্দ আজ আমাদের কাছে এতটাই পরিচিত
যে আর বিচলিত হই না ওসব শুনে।
গুলির শব্দ আমরা শুনতে পাই।
চমকে উঠি শুনলে। কেন?
কে মারা গেল তাই ভেবে? না;
গুলিটা আমার গায়ে লাগলো নাতো? এই ভয়ে।
মৃত্যুর কোন শব্দ নেই। মানুষ মারা যায় নীরবে।
আপন জনের আহাজারিতে বাতাস ভাড়ী হয়ে ওঠে।
একসময় বাতাসও ক্লান্ত হয়।
নেমে আসে নীরবতা।
হাজারো কোলাহলের মাঝে
আমি সেই নীরবতা খুঁজে ফিরি।